বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরেই হচ্ছে অত্যাধুনিক কারাগার

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরেই হচ্ছে অত্যাধুনিক কারাগার

একসময় ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে এবার গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের অত্যাধুনিক একটি কারাগার। যে এলাকায় একসময় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দাপটে দেড় লাখের বেশি মানুষ জিম্মিদশায় ছিলেন, সেই এলাকাটিই এখন বেছে নেওয়া হয়েছে অপরাধ সংশোধন ও পুনর্বাসনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে। ৭০ একর জমিতে নির্মিতব্য এই কারাগারে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে বিচারাধীন প্রায় দুই হাজার আসামিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী এবং নগরীর বায়েজিদ, পাহাড়তলী ও খুলশী এলাকার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ চলত। একাধিক উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি কয়েক মাস আগেও র‌্যাব সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে সেখানে। এখন সেই এলাকাটিই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সেখানে নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ৭০ একর জমি বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, বর্তমান কারাগার অতিরিক্ত বন্দির চাপে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি থাকায় ওভারলোড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই মেগা সিটির প্রয়োজন অনুযায়ী একটি আধুনিক কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থাপনাটি প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো। এর ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৪৯ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ৬ হাজার ৩৩৮ জন। এর মধ্যে মহানগর আদালতে বিচারাধীন মামলায় আটক প্রায় দুই হাজার বন্দিকে নতুন কারাগার নির্মাণের পর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি (প্রিজন) মো. ছগির মিয়া জানান, নতুন কারাগার নির্মিত হলে সেখানে মেট্রো এলাকার হাজতি ও কয়েদিদের রাখা হবে। এতে জেলা ও মহানগরের বন্দিদের আলাদা রাখা সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সুবিধা আনবে।

অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে কারা প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কারাগারটি কেবল বন্দি আটকে রাখার স্থান হবে না। সেখানে পুনর্বাসন, শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে মুক্তির পর তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, আধুনিক কারাগারের ধারণা অনুযায়ী বন্দিদের জন্য সীমিত শিক্ষার পরিবেশ, খেলাধুলা এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হবে, যাতে তারা সংশোধিত হয়ে পুনরায় অপরাধে না জড়ান।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিকল্পিতভাবে কারাগার নির্মাণের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিকল্পিতভাবে কারাগার নির্মাণ করা হলে এটি মানবাধিকার ও উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে শান্তই সেরা অধিনায়ক

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে শান্তই সেরা অধিনায়ক

মুশফিকুর রহিমকে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক এখন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর টাইগারদের সেরা অধিনায়কের তকমা পেয়েছেন শান্ত।

পরিসংখ্যান বলছে, শান্তর নেতৃত্বে ১৮ টেস্ট খেলে ৮ জয়, ৯ হার ও ১টি ম্যাচ ড্র করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে মুশফিকের অধীনে ৩৪ টেস্ট খেলে ৭টিতে জয়, ১৮টিতে হার ও ৯টিতে ড্র করেছে টাইগাররা। মুশফিকের চেয়ে ১৬ ম্যাচ কম নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি জয় এনে দিয়েছেন শান্ত।

Najmul Hossain Shanto strikes a pose, Bangladesh vs Pakistan, 2nd Test, Sylhet, 5th day, May 20, 2026

শান্ত ও মুশফিকের পর বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ জয় এসেছে সাকিব আল হাসানের অধীনে। ১৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় দলকে ১৫ হার ও ৪ জয়ের স্বাদ দিয়েছেন সাকিব।

তালিকায় চতুর্থ সর্বোচ্চ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুমিনুল হক। তার অধীনে ১৭ টেস্ট খেলে ৩টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ১২টি হারের সঙ্গে ২টি ড্রও ছিল।

The Bangladesh players pose with the coaching staff after the win, Bangladesh vs Pakistan, 2nd Test, Sylhet, 5th day, May 20, 2026

এছাড়া টেস্টে বাংলাদেশের ১টি করে জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুল বাশার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস ও মাশরাফি বিন মর্তুজা।

এছাড়াও আরও একটি জায়গায় মুশফিককে ছাড়িয়ে গেছেন শান্ত। তার অধীনে ঘরের মাঠে ছয়টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। মুশফিকের অধীনে ঘরের মাঠে পাঁচটি টেস্ট জিতেছে টাইগাররা।

ভাঙছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট, নেতানিয়াহুর পতন ঘটতে পারে?

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৪:০১ পূর্বাহ্ণ
ভাঙছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট, নেতানিয়াহুর পতন ঘটতে পারে?

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে আগাম নির্বাচন এবং পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করা সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) এই বিলের ওপর ভোট হবে। প্রস্তাব পাস হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বিভিন্ন জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচন কবে হতে পারে

এখনও আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে অথবা অক্টোবরের শেষের দিকে ভোট হতে পারে। সাধারণত প্রতি চার বছর পর নির্বাচন হলেও ইসরায়েলে আগাম নির্বাচনের নজির নতুন নয়।

কেন ভাঙছে পার্লামেন্ট 

নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র, একটি আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি দল এ মাসে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা আর নেতানিয়াহুর সঙ্গে নেই। তাদের অভিযোগ, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে তাদের সম্প্রদায়কে ছাড় দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা পূরণ করা হয়নি।

একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত জুনেও সরকার পতনের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নেতানিয়াহুর জোটই ১৩ মে পার্লামেন্ট ভাঙার বিল জমা দিয়েছে।

এখন কী হবে

বিলটি প্রথমে কমিটিতে যাবে, তারপর নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে। এরপর সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তিন দফা ভোট হবে। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে অন্তত ৬১ জনের সমর্থন লাগবে। পুরো প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যেও শেষ হতে পারে।

জনমত জরিপে কী বলা হচ্ছে  

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা অনেকটা কমেছে। প্রায় সব জরিপেই দেখা যাচ্ছে, তার জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। তবে বিরোধীরা যদি একজোট হয়ে সরকার গঠন করতে না পারে, তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু থেকে যেতে পারেন।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা কারা

নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জার এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তিনি বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে মিলে ‘টুগেদার’ নামে নতুন দল গঠন করেছেন। জরিপে এই দল নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক সেনাপ্রধান গাদি ইজিনকটও বেশ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

পরিস্থিতি এখনও গতিশীল। ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ইসরাইলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

চীনের ‘গুপ্তচর’ হয়ে কাজ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়র, শহরজুড়ে তোলপাড়

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ
চীনের ‘গুপ্তচর’ হয়ে কাজ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়র, শহরজুড়ে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কাডিয়া শহরের মেয়র আইলিন ওয়াং পদত্যাগের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় পর্যায়ে চীনের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারে বেইজিংয়ের এমন প্রচেষ্টা নতুন কিছু নয়।

৫৮ বছর বয়সী ওয়াং সোমবার একটি ফৌজদারি অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের পক্ষে অবৈধ বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে বলা হয়, ওয়াং ও তার এক সহযোগী চীনের স্বার্থে কাজ করেন এবং স্থানীয় চীনা-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচিত একটি ওয়েবসাইটে বেইজিংপন্থি প্রচারণা চালান।

এই ঘটনায় আলোড়ন তৈরি হয়েছে আর্কাডিয়ায়, যেটিকে বড় ও সচ্ছল চীনা-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর কারণে অনেক সময় ‘চাইনিজ বেভারলি হিলস’ বলা হয়। প্রায় ৫৬ হাজার বাসিন্দার এ শহরের অর্ধেকের মতো চীনা বংশোদ্ভূত।

২০২২ সালে সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন ওয়াং। আর্কাডিয়ায় কাউন্সিল সদস্যদের ঘুরিয়ে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পদত্যাগের সময় তিনি মেয়র ছিলেন।

শহর কর্তৃপক্ষ অভিযোগকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, একজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে বিচার করা উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো জোশুয়া কারলান্টজিক বলেন, বিদেশে প্রভাব বিস্তারে চীনের কর্মকাণ্ড এখন ‘খুবই সাধারণ’ হয়ে উঠেছে।

তার ভাষ্য, চীনের একটি বিশেষ সংস্থা রয়েছে, যারা প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে বিদেশি সরকার ও সমাজে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। এর লক্ষ্য হলো জনমত নিয়ন্ত্রণ, ভিন্নমত কমানো এবং রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তার করা।

তিনি বলেন, ‘চীন স্থানীয় থেকে জাতীয়—সব পর্যায়ের রাজনীতিক, গণমাধ্যম ও ছাত্রগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী। এ জন্য তাদের বড় ধরনের প্রচেষ্টা রয়েছে।’

কারলান্টজিকের মতে, মেয়র ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কারণ হলো—তাদের অনেকের আন্তর্জাতিক বিষয়ক অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা কাঠামো তুলনামূলক দুর্বল।

তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে তিনি সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার আগেই।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদেশি সরকারের পক্ষে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিবন্ধন করতে হয়। ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে এমন নিবন্ধন না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের আইন বিশেষজ্ঞ রোজ চ্যান লুই বলেন, বিদেশি সরকারের পক্ষে জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি জানেন যে আপনার কর্মকাণ্ড কোনো বিদেশি সত্তা সম্পর্কে জনমত প্রভাবিত করতে পারে, তাহলে আইন আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।’

জার্মান মার্শাল ফান্ডের ইন্দো-প্যাসিফিক কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ফেলো মারেইকে ওলবার্গ বলেন, বিদেশিদের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার কৌশল চীনের দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা আরও সংগঠিত ও পরিশীলিত হয়েছে।

তার মতে, চীন মনে করে ‘বিরূপ বয়ান মোকাবিলা’ করতে হবে এবং এমন কোনো পরিসর রাখা যাবে না, যা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বিচার বিভাগের অভিযোগে উল্লেখ করা এক লেখায় শিনজিয়াংয়ে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বা ‘গণহত্যা’ হয়নি বলে দাবি করা হয়েছিল। এটি উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনের দমন-পীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর পাল্টা বয়ান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উইঘুর-আমেরিকান অধিকারকর্মী রুশান আব্বাস বলেন, এই ঘটনা দেখাচ্ছে যে চীন বিশ্বজুড়ে ভিন্নমত দমন ও জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটি উদ্বেগজনক, তবে বিস্ময়কর নয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত।’

এদিকে আর্কাডিয়া সিটি কাউন্সিলের সদস্য শ্যারন কোয়ান বলেন, গত এক বছর ধরে তিনি স্বচ্ছতা ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। তার দাবি, কাউন্সিল পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি।

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র পল চেং বলেন, গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তিনি রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে শহর প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ওয়াংয়ের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনার কারণে তিনি ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়েছেন। তারা জানান, ওয়াং অভিযোগের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এবং নিজের ভুলের দায় নিতে প্রস্তুত।

আর্কাডিয়ার সিটি ম্যানেজার ডমিনিক লাজারেত্তো বলেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় শহরের অর্থ, কর্মী বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ওয়াংয়ের কর্মকাণ্ডের কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী ২৯ মে ওয়াংয়ের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

error: Content is protected !!