রক্ষক যখন ভক্ষক তখন বন রক্ষা করবে কে
কক্সবাজার বন বিভাগ লুটপাট করে খাচ্ছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কমকর্তা ডিএফও মারুফ হোসেন ও ফরেস্ট রেঞ্জার, রেঞ্জ কর্মকর্তা জাকারিয়া ফেরদৌস পিএম খালী রেঞ্জ ও
কক্সবাজার শহর রেঞ্জ কমকর্তা মনিরুল জামান ও
খসরু আমিন , ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কমকর্তা বিরুদ্ধে ঘুষ আর দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে
অবৈধ চোরাই কাঠ আটক করে তা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া ও জরিমানার নামে আটক গাড়ীর মালিক থেকে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিরুদ্ধে। পাচারের সময় যে পরিমাণ চোরাই কাঠ জব্দ করা হয়েছিল তার সিংহ ভাগ আত্মসাত করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়,গাড়ীর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে জরিমানার নামে ৫০ হাজার টাকা আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বনকর্মীদের বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য আর জব্দকৃত কাঠ রাঁতের আধাঁরে সরিয়ে ফেলা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের ফার্নিচার তৈরীর ঘটনা কক্সবাজার বন অধিদপ্তরে নতুন ঘটনা নয়
একের পর এক দখল আর বন্দোবস্তে হারিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের পাহাড়-বনভূমি। রক্ষা পাচ্ছে না ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন’ বনাঞ্চলও। পরিবেশবিদরা বলছেন, যে গতিতে বন দখল চলছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে কক্সবাজারে হয়তো কোনো বনভূমি থাকবে না। কেননা, এরই মধ্যে এখানকার মোট বনভূমির চার ভাগের এক ভাগ দখল হয়ে গেছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দখলদার ৪৪ হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসেন চাকরিতে যোগদান করে বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি বন বিভাগের দায়িত্ব নেয়ার পর সব কর্মস্থলে দেদার বন উজাড়, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বৃক্ষ নিধনের সুযোগ সৃষ্টি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান।
আর এই অবৈধ উপার্জিত টাকায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ১ কোটি টাকা, দিয়ে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে সরাসরি ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
এ নিয়ে বন বিভাগের প্রায় দুই ডজন উপ-বন সংরক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা দিতে না পারায় দুই ডজন উপ-বন সংরক্ষককে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং আবার অনেককেই বন অধিদপ্তরে বসিয়ে রেখেছে। অথচ
কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ডিএফও হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। মারুফ হোসেন
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে যোগদানেন পর বন বিভাগের ১০টি রেঞ্জ, ৪টি চেক স্টেশন ও বিট কর্মকর্তাদের অফিসে ডেকে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, তার অধীনে দায়িত্বে থাকতে হলে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে এককালীন ৫ লাখ, বিট কর্মকর্তাকে ৩ লাখ ও চেক পোস্ট কর্মকর্তাকে এককালীন ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি মাসের অবৈধ উপার্জিত টাকা থেকে ৪০ ভাগ টাকা তাকে দিতে হবে। এভাবেই তিনি যোগদানের করে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তা ও চেক স্টেশনের কর্মকর্তা ঘুষের বিনিয়োগের টাকা পুনরুদ্ধার ও নিজেরা লাভবান হতে বন উজাড় প্রক্রিয়া শুরু করেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় ভূমিদস্যু ও বনদস্যুদের সাথে হাত মিলিয়ে পাহাড় থেকে মাটি কাটা, মাটি পাচার, অবৈধ করাতকল, সরকারি বনভূমির জায়গা বিক্রি, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, ইটভাটায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ পাচার, পাহাড়ের অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা তৈরির সুযোগ দিয়ে একরপ্রতি লাখ টাকা আদায়, রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড় করে গাছ বিক্রি, স্থানীয় স’মিলে বন থেকে চুরি কাঠ চেরাই, হাজার হাজার ট্রাকভর্তি মাটি ও বালু বিক্রি, বনভূমিতে পানের বরজ, তামাক চাষ, পাকা দালান নির্মাণ ও অস্থায়ী বসতবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিয়ে হাজার কোটি টাকার বনজসম্পদ উজাড় করেন তারা।
জানা যায়, সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে গ্রিনবেল্ট ও সুফল প্রকল্পে। এই দুই প্রকল্পে বাগান করার জন্য যত টাকা বরাদ্দ হয়েছে তার ৩৫ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছ থেকে অগ্রিম কেটে নিয়েছেন ডিএফও। তাদের নামে চেক ইস্যু করে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলিয়ে ডিএফও অফিসে বসিয়ে ৩৫ শতাংশ হারে নগদ টাকা ঘুষস্বরুপ নিয়েছেন তিনি। বাকি ৬৫ শতাংশ টাকা থেকে রেঞ্জ কর্মকর্তারা ৩০ শতাংশ আত্মসাৎ করায় বাগান হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। বাগানের রাস্তার পাশে নিয়ম মোতাবেক গাছ লাগালেও বাগানের অভ্যান্তরে বিপুল পরিমাণ জায়গা খালি পড়ে আছে, যা সরেজমিনে দেখা যায় বলেও উল্লেখ করা হয় অভিযোগে।
এছাড়াও মালামাল সাপ্লাইয়ের তালিকা ও ভূয়া মাষ্টার রুলের ব্যাপারে তদন্ত করলেই অর্থ আত্মসাতের আংশিক সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে
অভিযোগে আরো উল্ল্যেখ করেন, বন উজাড় করে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ডিএফও মারুফ হোসেন অবৈধভাবে আয় করেছে শত কোটি টাকা। এই টাকায় স্ত্রী, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে
বেনামে করেছেন সম্পদের পাহাড়
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অব্যাহত এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে স্থানীয়রা অভিযোগ দায়ের করলে বেশ কয়েকবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা কক্সবাজার আসলে তাকে ম্যানেজ করে তার ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জাহান। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের রিসিভ করে হোটেল কক্ষে তুলে দেন। সেখানে তদন্ত কর্মকর্তার জন্য ব্যাবস্থা করা হয় কল গার্ল। কল গার্লের মাধ্যমে ধারণ করা হয় অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও। আয়োজন করা হয় ভূড়িভোজের।
তদন্তের জন্য তার নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় বিভিন্ন বাগানে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ঘুরে আবার হোটেলে নিয়ে আসা হয়। দেওয়া হয় মোটা অংকের টাকা। তদন্ত কর্মকর্তারা বাড়াবাড়ি করলে অন্তরঙ্গ মুহুর্তে ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এরপর দামাচাপা পড়ে যায় তদন্ত। মনগড়া রিপোর্ট দাখিল করেই শেষ করে দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এভাবেই একের পর এক অপকর্ম করে হাজার কোটি টাকার বনজ সম্পদ উজাড়সহ লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে ডিএফও মারুফ হোসেন এর বিরুদ্ধে।
ক্যাশিয়ারের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর বন বিভাগের বাঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জাহান জানান, আমি শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দুরে থাকি। আমি কিভাবে ডিএফও এর ক্যাশিয়ার হব। বিভাগীয় অফিসে তো অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকে তাদেরকে বাদ দিয়ে আমাকে কেন টানা হচ্ছে জানি না। অনেক রেঞ্জ কর্মকর্তা আমাকে সরানোর জন্য হয়তো ষড়যন্ত্র করে আমার নাম যুক্ত করেছে অভিযোগে। এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু বলবো না ।
আপনারা যা পারেন লিখতে পারেন তাতে আমার কিছু করতে পারবেন না আমি সব কিছু মেনেজ করে চলি
বিস্তারিত আরও জানতে আমাদের সাথে থাকুন সারা বাংলাদেশের দুর্নীতি বাজ দের মুখোশ খুলে দিতে আমরা আছি আপনাদের মাঝে







