মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রক্ষক যখন ভক্ষক তখন বন রক্ষা করবে কে

কক্সবাজার বন বিভাগ লুটপাট করে খাচ্ছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন

কক্সবাজার প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কক্সবাজার বন বিভাগ লুটপাট করে খাচ্ছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয়  বন কমকর্তা  ডিএফও মারুফ হোসেন  ও ফরেস্ট রেঞ্জার, রেঞ্জ কর্মকর্তা জাকারিয়া ফেরদৌস    পিএম খালী  রেঞ্জ ও

কক্সবাজার শহর রেঞ্জ কমকর্তা মনিরুল জামান  ও

খসরু আমিন    , ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কমকর্তা বিরুদ্ধে ঘুষ আর দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে

অবৈধ চোরাই কাঠ আটক করে তা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া ও জরিমানার নামে আটক গাড়ীর মালিক থেকে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান   বিরুদ্ধে। পাচারের সময় যে পরিমাণ চোরাই কাঠ জব্দ করা হয়েছিল তার সিংহ ভাগ আত্মসাত করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়,গাড়ীর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে জরিমানার নামে ৫০  হাজার টাকা আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বনকর্মীদের বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য আর জব্দকৃত কাঠ রাঁতের আধাঁরে সরিয়ে ফেলা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের ফার্নিচার তৈরীর ঘটনা কক্সবাজার বন অধিদপ্তরে নতুন ঘটনা নয়

একের পর এক দখল আর বন্দোবস্তে হারিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের পাহাড়-বনভূমি। রক্ষা পাচ্ছে না ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন’ বনাঞ্চলও। পরিবেশবিদরা বলছেন, যে গতিতে বন দখল চলছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে কক্সবাজারে হয়তো কোনো বনভূমি থাকবে না। কেননা, এরই মধ্যে  এখানকার মোট বনভূমির চার ভাগের এক ভাগ দখল হয়ে গেছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দখলদার ৪৪ হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসেন   চাকরিতে যোগদান করে  বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি বন বিভাগের দায়িত্ব নেয়ার পর সব কর্মস্থলে দেদার বন উজাড়, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বৃক্ষ নিধনের সুযোগ সৃষ্টি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান।

আর এই অবৈধ উপার্জিত টাকায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ১ কোটি টাকা,  দিয়ে  কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে সরাসরি ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

এ নিয়ে বন বিভাগের প্রায় দুই ডজন উপ-বন সংরক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা দিতে না পারায় দুই ডজন উপ-বন সংরক্ষককে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং আবার অনেককেই বন অধিদপ্তরে বসিয়ে রেখেছে। অথচ

কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ডিএফও হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। মারুফ হোসেন

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়,  কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে যোগদানেন পর বন বিভাগের ১০টি রেঞ্জ, ৪টি চেক স্টেশন ও বিট কর্মকর্তাদের অফিসে ডেকে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, তার অধীনে দায়িত্বে থাকতে হলে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে এককালীন ৫ লাখ, বিট কর্মকর্তাকে ৩ লাখ ও চেক পোস্ট কর্মকর্তাকে এককালীন ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি মাসের অবৈধ উপার্জিত টাকা থেকে ৪০ ভাগ টাকা তাকে দিতে হবে। এভাবেই তিনি যোগদানের করে  শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তা ও চেক স্টেশনের কর্মকর্তা ঘুষের বিনিয়োগের টাকা পুনরুদ্ধার ও নিজেরা লাভবান হতে বন উজাড় প্রক্রিয়া শুরু করেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় ভূমিদস্যু ও বনদস্যুদের সাথে হাত মিলিয়ে পাহাড় থেকে মাটি কাটা, মাটি পাচার, অবৈধ করাতকল, সরকারি বনভূমির জায়গা বিক্রি, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, ইটভাটায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ পাচার, পাহাড়ের অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা তৈরির সুযোগ দিয়ে একরপ্রতি লাখ টাকা আদায়, রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড় করে গাছ বিক্রি, স্থানীয় স’মিলে বন থেকে চুরি কাঠ চেরাই, হাজার হাজার ট্রাকভর্তি মাটি ও বালু বিক্রি, বনভূমিতে পানের বরজ, তামাক চাষ, পাকা দালান নির্মাণ ও অস্থায়ী বসতবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিয়ে হাজার কোটি টাকার বনজসম্পদ উজাড় করেন তারা।

জানা যায়, সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে গ্রিনবেল্ট ও সুফল প্রকল্পে। এই দুই প্রকল্পে বাগান করার জন্য যত টাকা বরাদ্দ হয়েছে তার ৩৫ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছ থেকে অগ্রিম কেটে নিয়েছেন ডিএফও। তাদের নামে চেক ইস্যু করে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলিয়ে ডিএফও অফিসে বসিয়ে ৩৫ শতাংশ হারে নগদ টাকা ঘুষস্বরুপ নিয়েছেন তিনি। বাকি ৬৫ শতাংশ টাকা থেকে রেঞ্জ কর্মকর্তারা ৩০ শতাংশ আত্মসাৎ করায় বাগান হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। বাগানের রাস্তার পাশে নিয়ম মোতাবেক গাছ লাগালেও বাগানের অভ্যান্তরে বিপুল পরিমাণ জায়গা খালি পড়ে আছে, যা সরেজমিনে দেখা যায় বলেও উল্লেখ করা হয় অভিযোগে।

এছাড়াও মালামাল সাপ্লাইয়ের তালিকা ও ভূয়া মাষ্টার রুলের ব্যাপারে তদন্ত করলেই অর্থ আত্মসাতের আংশিক সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে

 

অভিযোগে আরো উল্ল্যেখ করেন, বন উজাড় করে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ডিএফও  মারুফ হোসেন   অবৈধভাবে আয় করেছে শত কোটি টাকা। এই টাকায় স্ত্রী, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে

বেনামে করেছেন সম্পদের পাহাড়

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অব্যাহত এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে স্থানীয়রা অভিযোগ দায়ের করলে বেশ কয়েকবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা কক্সবাজার আসলে তাকে ম্যানেজ করে তার ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জাহান। তিনি  তদন্ত কর্মকর্তাদের রিসিভ করে হোটেল কক্ষে তুলে দেন। সেখানে তদন্ত কর্মকর্তার জন্য ব্যাবস্থা করা হয় কল গার্ল। কল গার্লের মাধ্যমে ধারণ করা হয় অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও। আয়োজন করা হয় ভূড়িভোজের।

তদন্তের জন্য তার নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় বিভিন্ন বাগানে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ঘুরে আবার হোটেলে নিয়ে আসা হয়। দেওয়া হয় মোটা অংকের টাকা। তদন্ত কর্মকর্তারা বাড়াবাড়ি করলে অন্তরঙ্গ মুহুর্তে ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এরপর দামাচাপা পড়ে যায় তদন্ত। মনগড়া রিপোর্ট দাখিল করেই শেষ করে দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এভাবেই একের পর এক অপকর্ম করে হাজার কোটি টাকার বনজ সম্পদ উজাড়সহ লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে ডিএফও মারুফ হোসেন  এর  বিরুদ্ধে।

ক্যাশিয়ারের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর বন বিভাগের বাঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জাহান জানান, আমি শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দুরে থাকি। আমি কিভাবে ডিএফও এর ক্যাশিয়ার হব। বিভাগীয় অফিসে তো অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকে তাদেরকে বাদ দিয়ে আমাকে কেন টানা হচ্ছে জানি না। অনেক রেঞ্জ কর্মকর্তা আমাকে সরানোর জন্য হয়তো ষড়যন্ত্র করে আমার নাম যুক্ত করেছে অভিযোগে। এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন   জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু বলবো না  ।

আপনারা যা পারেন লিখতে পারেন তাতে আমার কিছু করতে পারবেন না আমি সব কিছু মেনেজ করে চলি

বিস্তারিত আরও জানতে আমাদের সাথে থাকুন সারা বাংলাদেশের দুর্নীতি বাজ দের মুখোশ খুলে দিতে আমরা আছি আপনাদের মাঝে

শরণখোলায় নসিমন দূর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু

কবির হোসেন কিবরিয়া,শরণখোলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
শরণখোলায় নসিমন দূর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু
শরণখোলায় নসিমন চাপায় সুজন মোল্লা(৪০) নামে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পহলান বাড়ী ছুটুখার বাজার সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শরনখোলা থানার পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুজন মোল্লার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি মা-বাবা স্ত্রী, আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
সুজন মোল্লা উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা ,হানিফ মোল্লার বড় ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফিরে এসে গাছের ব্যবসা শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গাছ বিক্রি শেষে নিজ নসিমনযোগে বাড়ি ফিরছিলেন সুজন মোল্লা। পথে ছুটুখার বাজার সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নসিমনের চাপায় গুরুতর আহত হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।
এছাড়া দুর্ঘটনায় রিয়াদ নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামিনুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অবশেষে মাজার দিঘির সেই ঘাতক কুমিরটিকে সুন্দরবনে অপসারণ

কবির হোসেন কিবরিয়া(বাগেরহাট) শরণখোলা প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
অবশেষে মাজার দিঘির সেই ঘাতক কুমিরটিকে সুন্দরবনে অপসারণ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভা শেষে তিনি জানান, মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মাজারের দীঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কুমিরটি ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করেন।
এর আগে, সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় কুমিরটি সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুমিরটি অপসারণের  কার্যক্রম চলমান ছিল।

খানজাহান আলী (রঃ) দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশুর মৃত্যু।

কবির হোসেন কিবরিয়া(বাগেরহাট)শরণখোলা প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
খানজাহান আলী (রঃ) দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশুর মৃত্যু।
খান জাহান আলী (রঃ)’র দরগায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা । ৭বছর বয়সী শিশুকে টেনে নিয়ে গেল খানজাহান আলী মাজারের দিঘির কুমির।
সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাট গম্বুজ ইউনিয়নের খানজাহান (রঃ) মাজারের দিঘিতে মহিলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ শিশু ফাতেমা ও তার মা শিশুটির এক বছর বয়স থেকেই মাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে সোমবার রাতে শিশুটি দিঘির ঘাটে গেলে হঠাৎ একটি কুমির তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় উপস্থিত লোকজন ও দর্শনার্থীরা নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দিঘিতে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। তবে দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতির কারণে উদ্ধার অভিযানে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে বাগেরহাট -২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক বাগেরহাট গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার বাগেরহাট হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) বাগেরহাট মোঃ মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা পর উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
অবুঝ শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে দরগা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানসিক প্রতিবন্ধী মা হয়তো এখনো বুঝেন নাই যে তার সন্তান দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে । শিশুটির পরনের পোশাক হাতে নিয়ে নিভৃতে বসে আছেন মানুষিক প্রতিবন্ধী মা।
error: Content is protected !!