রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রক্ষক যখন ভক্ষক তখন বন রক্ষা করবে কে

বান্দরবন বন বিভাগ গিলে খাচ্ছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম

সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার বান্দরবান প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবন বন বিভাগ গিলে খাচ্ছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা  তৌফিকুল ইসলাম

বান্দরবান বন বিভাগে ডিএফও  সিন্ডিকেট এর বিরুদ্ধে  বেপরোয়া ঘুষ আর দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে

বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন   মোঃ তৌফিকুল ইসলাম ও জনাব জয়ন্ত কুমার রায় রেঞ্জ অফিসার, খ্যায়াচলং রেঞ্জ, বান্দরবান বন বিভাগ, বান্দরবান। ও রেঞ্জ অফিসার, টংকাবতী রেঞ্জ,  মোঃ রাফি-উদ-দৌলা সরদার

এর  সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গাছ পাচার, ইটভাটা থেকে চাঁদাবাজি ও পোস্টিং বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা অবৈধ আয় করছেন। প্রধান বন সংরক্ষকের আস্থাভাজন দাবি করে তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে বন ও পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাদের প্রধান সহযোগী রাফি উদ দোলা সরদার  বান্দরবান বন বিভাগের শুয়ালক ফরেস্ট চেক স্টেশনে লুটপাট করেছে বনের গাছ

সম্প্রতি এই ফরেস্ট চেক স্টেশনের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে উপকূলীয় বন বিভাগের মহেশখালী শাপলাপুর বিটে বদলি করার পর টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা রাফি উদ দৌল্লাহকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা  মোঃ তৌফিকুল ইসলাম

রাফি উদ দৌল্লাহ উর্ধ্বতন-কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন এবং ক্যাশিয়ার হওয়ায় লাগামহীনভাবে অবৈধ বনজদ্রব্য পাচারে জড়িয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া ওই এলাকার সব ইটভাটা থেকে চাঁদা তোলায় বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে। নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে এসব ইটভাটায় বনাঞ্চলের কাঠ।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, শুয়ালক ফরেস্ট চেক স্টেশন পেরিয়ে অবৈধ গাছ পাচারের মহোৎসব চলছে। রাত যত গভীর হয়, ততই সরব হয় চেক স্টেশনটি। রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ (রদ্দা ও গোলকাঠ) পাচার করছে কাঠ চোরাকারবারি চক্র।

অবৈধ গাছ পাচারে প্রতি গাড়ি থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর প্রধান বন সংরক্ষকের নাম ভাঙিয়ে কমিশন তোলেন বান্দরবান সদর রেঞ্জ ও বিশেষ টহল দলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মোঃ মুনতাসির রহমান (রুহুল)

তিনি এই রেঞ্জসহ বিভিন্ন রেঞ্জ থেকে সিএফএর নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তোলেন। আদৌ এই টাকা সিসিএফ পর্যন্ত পৌঁছে কি না তা সবার অজানা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম

ওই শুয়ালক ফরেস্ট চেক স্টেশন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন ১৮টি ইটভাটার। তিনি প্রতিটি ইটভাটা থেকে মাসে ৩ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন। চাঁদা না দিলে ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে বন্ধ ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ইটভাটার মালিকেরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছেন, শুয়ালক স্টেশন কর্মকর্তা রাফি উদ দৌল্লাহ সম্প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে সদর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ডিএফওকে প্রতি মাসে ঘুষ দিয়ে শুয়ালক ফরেস্ট চেক স্টেশনে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রধান বন সংরক্ষক ও ডিএফও’র সাথে গভীর সম্পর্কের কারণে দিনদিন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করেও রেঞ্জ অফিসার রাফি-উদ-দৌলা সরদার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় ওই সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা জনাব মোঃ মুনতাসির রহমান (রুহুল)

, শুয়ালক ফরেস্ট চেক স্টেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকার মানুষের দাবি, অসাধু এই সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হোক।

বন ও পরিবেশের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এলাকার জনগণকে শান্তিতে থাকার ও অবৈধ বনজদ্রব্য পাচার রোধসহ বৈধ পন্থায় সাধারণ মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রধান বন সংরক্ষক ও বন সংরক্ষক চট্টগ্রাম অঞ্চল চট্টগ্রামের প্রতি আবেদন জানান সচেতন মহল। বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় ২ পর্বে

শরণখোলায় নসিমন দূর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু

কবির হোসেন কিবরিয়া,শরণখোলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
শরণখোলায় নসিমন দূর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু
শরণখোলায় নসিমন চাপায় সুজন মোল্লা(৪০) নামে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পহলান বাড়ী ছুটুখার বাজার সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শরনখোলা থানার পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুজন মোল্লার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি মা-বাবা স্ত্রী, আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
সুজন মোল্লা উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা ,হানিফ মোল্লার বড় ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফিরে এসে গাছের ব্যবসা শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গাছ বিক্রি শেষে নিজ নসিমনযোগে বাড়ি ফিরছিলেন সুজন মোল্লা। পথে ছুটুখার বাজার সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নসিমনের চাপায় গুরুতর আহত হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।
এছাড়া দুর্ঘটনায় রিয়াদ নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামিনুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অবশেষে মাজার দিঘির সেই ঘাতক কুমিরটিকে সুন্দরবনে অপসারণ

কবির হোসেন কিবরিয়া(বাগেরহাট) শরণখোলা প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
অবশেষে মাজার দিঘির সেই ঘাতক কুমিরটিকে সুন্দরবনে অপসারণ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভা শেষে তিনি জানান, মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মাজারের দীঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কুমিরটি ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করেন।
এর আগে, সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় কুমিরটি সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুমিরটি অপসারণের  কার্যক্রম চলমান ছিল।

খানজাহান আলী (রঃ) দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশুর মৃত্যু।

কবির হোসেন কিবরিয়া(বাগেরহাট)শরণখোলা প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
খানজাহান আলী (রঃ) দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশুর মৃত্যু।
খান জাহান আলী (রঃ)’র দরগায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা । ৭বছর বয়সী শিশুকে টেনে নিয়ে গেল খানজাহান আলী মাজারের দিঘির কুমির।
সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাট গম্বুজ ইউনিয়নের খানজাহান (রঃ) মাজারের দিঘিতে মহিলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ শিশু ফাতেমা ও তার মা শিশুটির এক বছর বয়স থেকেই মাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে সোমবার রাতে শিশুটি দিঘির ঘাটে গেলে হঠাৎ একটি কুমির তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় উপস্থিত লোকজন ও দর্শনার্থীরা নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দিঘিতে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। তবে দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতির কারণে উদ্ধার অভিযানে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে বাগেরহাট -২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক বাগেরহাট গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার বাগেরহাট হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) বাগেরহাট মোঃ মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা পর উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
অবুঝ শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে দরগা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানসিক প্রতিবন্ধী মা হয়তো এখনো বুঝেন নাই যে তার সন্তান দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে । শিশুটির পরনের পোশাক হাতে নিয়ে নিভৃতে বসে আছেন মানুষিক প্রতিবন্ধী মা।
error: Content is protected !!