খুঁজুন
সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে ঢাবিতে ভুরিভোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে ঢাবিতে ভুরিভোজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিখেছে ইতিহাস থেকে। তারা প্রমাণ করেছে স্বৈরাচারের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। 

আবার এই স্বৈরাচারের পতন ও তার বিরুদ্ধে কোর্টের রায়কে স্মরণীয় রাখতেও শিখেছে শিক্ষার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়কে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন।

আব্দুল কাদের ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা এই ভোজের আয়োজনে সম্মতি জানায়। এরপর  মঙ্গলবার টিএসসি ক্যাম্পাসে দুটি গরু এবং দুটি খাসি জবাই করা হয়। পরে রাত পৌনে ৯টায় নারী শিক্ষার্থী ও ১০টায় ছেলেদের খাবার বিতরণ করা হয়।

এই ভোজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়৷ যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যারা দীর্ঘদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। পরে সকল ছাত্রনেতাদের সাথে বসে একসাথে খোশগল্প ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়।

সরজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে বেশ উৎসাহের সাথে, উৎসবমুখর পরিবেশে খাবার সংগ্রহ করছেন। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এই ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, এই আয়োজন সত্যিই অসাধারণ একটি উদ্যোগ৷ এটি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেয়। সবাই যদি এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ তৈরি হতে পারবে না।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজকে শুধু রায় উদযাপন নয়, বরং এই উদযাপনকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস হিসেবে তুলে ধরা, যেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একত্রিত হয়েছে।

শুরুতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার হাসিনা-বিরোধী লড়াইয়ে যারা সঙ্গী ছিলেন, সবাইকে নিয়ে আমরা টিএসসিতে আনন্দ ও বিজয় উদযাপন করব।

দেড় যুগের স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তার বিচারিক রায় নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ আমরা দলমত নির্বিশেষে একত্রে ভাগাভাগি করতে চাই।

আব্দুল কাদেরের ডাকে সাড়া দিয়ে এই আয়োজনে আর্থিকভাবে সহায়তায় এগিয়ে আসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এতে আয়োজনটি দল-মত নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশক্তি, বাম সংগঠনসহ অন্যান্যরা অংশ নেন। এই আনন্দ উদযাপনে শুধু রাজনৈতিক উদ্দীপনা নয়, তার মধ্যে রয়েছে এক গভীর অনুভূতি- একটানা সংগ্রামের পর আসা সাফল্য এবং বিজয়ের সম্মিলিত আনন্দ।

সার্বিক বিষয়ে আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের পর এই রায় আমাদের সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক বিজয়। টিএসসিতে এই ভোজ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শুধু আনন্দই প্রকাশ করছি না, বরং দেখাচ্ছি- যদি শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকে, কোনো স্বৈরাচারই টিকে থাকতে পারে না। দলমত নির্বিশেষে সবার একত্র হওয়াই আজকের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন আমাদের সহযোদ্ধাদের পুনর্মিলনের জায়গা করে দিয়েছে। যারা জুলাই আন্দোলনে একসঙ্গে রাস্তায় ছিলাম, আজ আমরা সেই বিজয় ভাগ করে নিচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজই গণতন্ত্রের শক্তি- এটাই আমরা প্রমাণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও এই ঐক্য থাকে আমরা সেই প্রত্যাশা রাখছি।

তেহরানে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
   
তেহরানে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তেহরান সফরে গিয়ে বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের ‘আরও অনেক কিছু করার আছে’।

রোববার (৩০ নভেম্বর) ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য এবং জ্বালানি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আজ আমরা আবার দেখলাম, কারণ আরও অনেক কিছু করার আছে।’ তার মতে, উভয় দেশের দীর্ঘস্থায়ী সমন্বয়ের প্রয়োজন।

ফিদান আরও বলেন, ‘সীমান্ত দক্ষতা উন্নত করতে, সীমান্ত গেটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে এবং সরবরাহ ও পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আমাদের দেশগুলোর জনসংখ্যা বিশাল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং উচ্চ বাণিজ্য রয়েছে। তবে আমাদের বাণিজ্য আরও কার্যকর হওয়া দরকার।’

মন্ত্রীরা অনিয়মিত অভিবাসন, বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে আসা অভিবাসন মোকাবেলার প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেছেন। ফিদান বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে একসাথে এই সমস্যাটি মোকাবেলা করার লক্ষ্য রাখি।’

ফিদান পূর্ব তুরস্কের ভ্যান প্রদেশে একটি নতুন কনস্যুলেট খোলার ইরানের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আরাঘচি সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে শিগগিরই নবম তুর্কি-ইরান উচ্চ-স্তরের সহযোগিতা পরিষদের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও সম্মত হন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে ফিদান গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদী নীতির ওপর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উভয় দেশই ‘মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ফিদান চলমান পারমাণবিক আলোচনার সময় তেহরানের প্রতি আঙ্কারার সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন এবং তিন ইউরোপীয় দেশের ‘অন্যায়’ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের নতুন আমির সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার সারোয়ার
প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
   
বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের নতুন আমির সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম
বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের নতুন আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের আহলে শূরা ও কাকরাইল মসজিদের শীর্ষ মুরুব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় এক ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভী এক আলমি মাশওয়ারায় এই ফয়সালা করেন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েম জানান, বাংলাদেশের শূরা হযরত প্রফেসর ইউনুস সিকদার আমিরের অধীনে শূরা হিসেবে থাকবেন এবং আমিরকে সহযোগিতার জন্য কাকরাইলের মাওলানা মনির বিন ইউসুফ ও হাফেজ ওজিউল্লাহকে শূরা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই মাশওয়ারায়।

সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে দীর্ঘদিন পর তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের আমির মনোনীত করায় তাবলিগের সাথীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ১৯৯৯ সাল থেকে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের আহলে শূরা ও কাকরাইল মসজিদের শীর্ষ মুরুব্বি ছিলেন। তিনি তাবলিগের কাজে বিশ্বের শতাধিক দেশ সফর করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মুরুব্বি ও একজন বিশ্ব নন্দিত দাঈ হিসেবে সর্বমহলে ব্যাপক পরিচিত।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া ইজতেমায় শরিক হওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫০০ তাবলিগের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় উপস্থিত আছেন। আগে তাবলিগ জামাতের বিশ্বব্যাপী এই মাশওয়ারা বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমায় অনুষ্ঠিত হতো। মাওলানা সাদ কান্ধলভী বিরোধিতার মুখে বাংলাদেশে না আসায় তাবলিগের এই আলমী মাশওয়ারা এ বছর ইন্দোনেশিয়া ইজতেমায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ইজতেমার সমাপনী দিনে তাবলীগের আলমী মাশওয়ারায় কয়েকটি দেশের তাবলিগ জামাতের নতুন আমির ঠিক করা হয়। তখন বিশ্ব আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভী বাংলাদেশের আমির হিসেবে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন।

স্কুলে ভর্তির ডিজিটাল লটারি ১১ ডিসেম্বর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
   
স্কুলে ভর্তির ডিজিটাল লটারি ১১ ডিসেম্বর

দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ ডিসেম্বর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে। এরপর ১১ ডিসেম্বর লটারি হবে। লটারিতে নির্বাচিতরাই ভর্তির সুযোগ পাবে।

মাউশির তথ্যমতে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে চার হাজার ৪৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এবার সরকারি স্কুলের সংখ্যা ৬৮৮টি এবং বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা তিন হাজার ৩৬০টি। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট শূন্য আসন ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮১টি। এর মধ্যে সরকারি স্কুলে শূন্য আসন এক লাখ ২১ হাজার ৩০টি এবং বেসরকারি স্কুলে আসন ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি।

গত ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি স্কুলের এক লাখ ২১ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিল দুই লাখ ৬০ হাজার ২৪৪ জন। তারা পছন্দক্রম দিয়েছিল তিন লাখ ৭৫ হাজার ৭২৮টি।

অন্যদিকে বেসরকারি স্কুলে ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিল ৯৮ হাজার ৭৬২ শিক্ষার্থী। তারা পছন্দক্রম দিয়েছিল এক লাখ ৮০ হাজার ৮৬২টি। এরপর আর আবেদন জমা পড়ার নতুন তথ্য জানায়নি মাউশি।

error: Content is protected !!