শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে ঢাবিতে ভুরিভোজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিখেছে ইতিহাস থেকে। তারা প্রমাণ করেছে স্বৈরাচারের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আবার এই স্বৈরাচারের পতন ও তার বিরুদ্ধে কোর্টের রায়কে স্মরণীয় রাখতেও শিখেছে শিক্ষার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়কে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন।
আব্দুল কাদের ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা এই ভোজের আয়োজনে সম্মতি জানায়। এরপর মঙ্গলবার টিএসসি ক্যাম্পাসে দুটি গরু এবং দুটি খাসি জবাই করা হয়। পরে রাত পৌনে ৯টায় নারী শিক্ষার্থী ও ১০টায় ছেলেদের খাবার বিতরণ করা হয়।
এই ভোজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়৷ যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যারা দীর্ঘদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। পরে সকল ছাত্রনেতাদের সাথে বসে একসাথে খোশগল্প ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়।
সরজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে বেশ উৎসাহের সাথে, উৎসবমুখর পরিবেশে খাবার সংগ্রহ করছেন। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এই ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়।
কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, এই আয়োজন সত্যিই অসাধারণ একটি উদ্যোগ৷ এটি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেয়। সবাই যদি এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ তৈরি হতে পারবে না।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজকে শুধু রায় উদযাপন নয়, বরং এই উদযাপনকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস হিসেবে তুলে ধরা, যেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একত্রিত হয়েছে।
শুরুতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার হাসিনা-বিরোধী লড়াইয়ে যারা সঙ্গী ছিলেন, সবাইকে নিয়ে আমরা টিএসসিতে আনন্দ ও বিজয় উদযাপন করব।
দেড় যুগের স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তার বিচারিক রায় নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ আমরা দলমত নির্বিশেষে একত্রে ভাগাভাগি করতে চাই।
আব্দুল কাদেরের ডাকে সাড়া দিয়ে এই আয়োজনে আর্থিকভাবে সহায়তায় এগিয়ে আসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এতে আয়োজনটি দল-মত নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশক্তি, বাম সংগঠনসহ অন্যান্যরা অংশ নেন। এই আনন্দ উদযাপনে শুধু রাজনৈতিক উদ্দীপনা নয়, তার মধ্যে রয়েছে এক গভীর অনুভূতি- একটানা সংগ্রামের পর আসা সাফল্য এবং বিজয়ের সম্মিলিত আনন্দ।
সার্বিক বিষয়ে আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের পর এই রায় আমাদের সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক বিজয়। টিএসসিতে এই ভোজ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শুধু আনন্দই প্রকাশ করছি না, বরং দেখাচ্ছি- যদি শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকে, কোনো স্বৈরাচারই টিকে থাকতে পারে না। দলমত নির্বিশেষে সবার একত্র হওয়াই আজকের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন আমাদের সহযোদ্ধাদের পুনর্মিলনের জায়গা করে দিয়েছে। যারা জুলাই আন্দোলনে একসঙ্গে রাস্তায় ছিলাম, আজ আমরা সেই বিজয় ভাগ করে নিচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজই গণতন্ত্রের শক্তি- এটাই আমরা প্রমাণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও এই ঐক্য থাকে আমরা সেই প্রত্যাশা রাখছি।



আপনার মতামত লিখুন