রুপগঞ্জ ঘুষ খোর সাব রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই
রূপগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা অফিসে ঘুষ আর দুর্নীতি তে ঘেরা এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা নড়ে না ফাইল

ঘুষ খোর সাব রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা
রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য ও হয়রানির চিত্র এখন আর গোপন নয়। অফিসে প্রবেশ করার পর থেকেই সেবাপ্রার্থীদের সামনে যেন অদৃশ্য এক ‘টোল ট্যাক্স’ দাঁড়িয়ে থাকে—যা না দিলে কোনও সরকারি কাজ এগোয় না।
স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি চক্র।
স্বাভাবিক সেবাতেও ঘুষ—আইন নেই, কার্যত “পন্থা” বানানো হয়েছে
দলিল নিবন্ধন, নামজারি, খতিয়ান যাচাই, জমির মালিকানা হস্তান্তর—এসব সরকারি সেবার নির্ধারিত ফি থাকলেও বাস্তবে সেবাপ্রার্থীদের দিতে হয় অতিরিক্ত “ঘুষ ফি”।
কেউ ঘুষ দিতে আপত্তি জানালে তার ফাইল দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়, নানা অজুহাতে ঘুরানো হয়, কাজের গতি থেমে যায়।
একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“দলিল সাইন করতে গেলে বলে—স্যার ব্যস্ত। কিন্তু পাশের ঘরে টাকা ধরিয়ে দিলে ৫ মিনিটেই সাইন হয়ে যায়। এই অফিসে ন্যায্য কাজ করতে গেলেও ঘুষ না দিলে লজ্জায় ফেলতে চায়।”
ঘুষের নির্দিষ্ট হার—এ যেন এক ‘অফিসিয়াল রেট তালিকা’
স্থানীয়রা বলছেন, অফিসের কর্মচারীদের মধ্যে ঘুষের নির্দিষ্ট কিছু হার প্রচলিত রয়েছে।
যেমন—
-
জরুরি দলিলের জন্য আলাদা রেট
-
খতিয়ান যাচাইয়ে ‘অগ্রাধিকার’ পেতে বিশেষ রেট
-
সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে দেখা করতে হলেও ‘ম্যনেজিং ফি’
অভিযোগ অনুযায়ী, কাজ দ্রুত করাতে হলে ‘মর্তুজা সাহেবের পছন্দের’ পরিমাণ টাকা দিতে হয়।
অর্থাৎ, ঘুষের ধরন, সময়, এমনকি কথাবার্তার ভঙ্গিও নাকি নির্দিষ্ট করা আছে!
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
“রূপগঞ্জে দলিল করতে গেলে আগে জানতে হয়—কত টাকায় কাজটা এগোবে।
সরকারি ফি বিষয় না, মূল কথা—ঘুষ দিলে কাজ হবে।”
অভিযোগ করলেই চাপ—প্রশাসনের নীরবতাও প্রশ্নবিদ্ধ
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপরের মহলে অভিযোগ দিলে কিছু ক্ষেত্রে তদন্তের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বরং যারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান, অনেকেই নাম গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হচ্ছেন।
একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানান,
“অভিযোগ করতে গেলেই অফিসের লোকজন বুঝে যায়। তারপর এমনভাবে ফাইল ঘোরায়—যেন আপনি অপরাধী। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?”
পুরো এলাকাজুড়ে ক্ষোভ—“এই চক্র ভেঙে না দিলে কেউ নিরাপদ না”
রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখন এক কথা বলছেন—এ অফিসে অনিয়ম বন্ধ করতে হলে শুধু একজন সাব-রেজিস্ট্রার নয়, পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
একজন স্থানীয় কৃষক বলেন,
“আধুনিক ডিজিটাল সেবা জমানায়ও আমাদের ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে হয়। এটা শুধু দুর্নীতি না—সরকারকে ব্যর্থ করার পাঁয়তারা।”
পর্দার আড়ালে কে বা কারা—বড় প্রশ্ন রয়ে গেল
বছরের পর বছর একজন কর্মকর্তা একই জায়গায় থেকে এমন নির্লজ্জ অনিয়ম করতে পারছেন—এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।
স্থানীয়দের কাছে এটি আর কেবল ঘুষ নয়; বরং একটি সুসংগঠিত ‘নেটওয়ার্ক’।
অনেকে মনে করছেন—
-
স্থানীয় দালাল চক্র
-
অফিসের কিছু কর্মচারী
-
এবং প্রভাবশালী মহলের মদদ
সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই দুর্নীতির অভয়ারণ্য।
দুদকের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে সত্য—আশা স্থানীয়দের
রূপগঞ্জবাসীর এখন একটাই দাবি—
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যেন এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে।
স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন,
“দুদক যদি সত্যিকারের তদন্ত করে, তাহলে থলের বিড়াল যেভাবেই হোক বেরিয়েই আসবে।”
আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
অনেকে সরাসরি দাবি করছেন—এ অফিসে গিয়ে সেবা নিতে গেলে মানুষ অপমানিত হন, সময় নষ্ট হয়, আর বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হয়।
এ যেন দুর্নীতির এক প্রকাশ্য প্রদর্শনী।
রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলমান এই ঘুষ বাণিজ্য শুধুমাত্র কয়েকজন কর্মকর্তার অনিয়ম নয়—এটি এখন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায্য সেবা পাওয়ার অধিকারকে পদদলিত করার সামিল।
সঠিক তদন্ত না হলে এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে—এটাই স্থানীয়দের আশঙ্কা ।বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে



আপনার মতামত লিখুন